আবারো শ্রীলঙ্কার কাঁন্না; আবারো শচীনদের শিরোপা জয়

শচীনকে মনে করা জয় ক্রিকেটের ঈশ্বর। কেউ মানুক বা না মানুক ভারতীয়রা এটা মানেন সবসময়। কিন্তু সেই শচীনের অর্জনের খাতায় নেই দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর রেকর্ড। সেই আক্ষেপটা ভক্তদের কিছুটা হলেও মেটালেন ক্রিকেট দেবতা। রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজের ৬ দলের টুর্নামেন্টে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে জেতালেন শিরোপা।

রোড সেফটি সিরিজে একটি মিল পাওয়া যায় বেশ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতের মাটিতে। ফাইনালের দুই দল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এটা জানার পরই নিশ্চয় আপনার মনে পড়বে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা। যেখানে শ্রীলঙ্কাকে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। রোড সেফটি সিরিজেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতেছেন শচীনের দল।

ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে যুবরাজ-ইউসুফ পাঠানের ঝড়ো ফিফটিতে ৪ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে ভারত লিজেন্ডস। জবাবে ৭ উইকেটে ১৬৭ রান করতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি শ্রীলঙ্কা। দিলশান-জয়সুরিয়ার ব্যাটে আসে ৬২ রানের জুটি। ২১ রান করে দিলশান, ৪৩ রান করে ফেরেন জয়সুরিয়া।এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা।

তবে লেট অর্ডারে এসে আবারো শচীনদের ঘাম ঝরিয়ে ছাড়েন জয়সিংহে ও বীরারাত্নে। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জয়ের আশা দেখান দুজন। কিন্তু রান রেটের চাপে সেটি সম্ভব হয়নি। ১৫ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বীরারত্নে ফিরলে শেষ হয়ে যায় আশা। জয়সিংহে ৩০ বলে ৪০ করে শেষ ওভারে রান আউট হন। তাতেই ১৬৭ রানে থামে লঙ্কানরা।

এর আগে রবিবার রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজের ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা লেজেন্ডস। শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি ইন্ডিয়া লেজেন্ডসের। তৃতীয় ওভারেই রঙ্গনা হেরাথের বলে আউট হয়ে যান বীরেন্দ্র সেবাগ। ১২ বলে ১০ রান করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর প্যাভিলিয়নে ফেরেন এস বদ্রীনাথও। সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন সচিন এবং যুবরাজ। দু’জনের জুটি যখন জমে উঠেছিল, তখন আউট হয়ে যান অধিনায়ক সচিন। ২৩ বলে ৩০ রান করেন তিনি। তারপর ইউসুফের সঙ্গে মারকাটারি ব্যাটিং শুরু করেন যুবরাজ।

১৫.১ ওভারে বাউন্ডারি মেরে ৩৫ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার। কম যাননি ইউসুফও। বরং যুবরাজের ব্যাটিং দেখে নিজের পুরনো বিধ্বংসী ফর্মে ফেরেন তিনি। একের পর এক বল বাউন্ডারির বাইরে ফেলতে থাকেন। মাত্র ২৬ বলেই অর্ধশতরান করেন। কিন্তু ১৯ তম প্রথম বলে বড় শট মারতে ডিপ মিড-উইকেটে ধরা পড়েন। ৪১ বলে ৬০ করেন। মারেন চারটি ছক্কা এবং চারটি বাউন্ডারি। সেই জুটিতেই ম্যাচে প্রবলভাবে ফিরে আসে ইন্ডিয়া লেজেন্ডস। চতুর্থ উইকেটে ৪৭ বলে ৮৫ রান যোগ করেন দুই অলরাউন্ডার। শেষপর্যন্ত ৩৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন ইউসুফ। ভারত পায় বিশাল সংগ্রহ।