ফেসবুকে ফাঁদ পেতে ১০০ নারীর সঙ্গে প্রতারাণা

ফেসবুকে নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। নিজেকে বড় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রেম। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক। ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা সেজে প্রতারক ধরার নামে আবারো প্রতারণা। এভাবেই গত ৮ বছরে প্রায় একশ নারীকে ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে বেলাল হোসেন। সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য দিয়েছে ডিবি পুলিশ।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের এক নারীর সঙ্গে বরিশালের বেলাল হোসেনের ফেসবুকে পরিচয়ের পর সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে গোপনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তে নামেন ডিবির মতিঝিল বিভাগ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা হয় অভিযুক্ত বেলালকে। যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর বেলাল বলেছে, বরিশাল থেকে ঢাকায় এসে প্রাইভেট কার চালাতো সে। ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর আপত্তিকর ছবি তুলে প্রতারণার ধারণা মাথায় আসে।

একজন ভুক্তভোগী নারী মুঠোফোনে ইনডিপেনডেন্টকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্পর্কে জড়ান। এরপর ওই যুবক বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে প্রতারণা করে টাকা হারিয়ে নেয়। এছাড়া এই প্রতারক আবার পুলিশ সেজে সহযোগিতার হাত বাড়াতো। বিশ্বাস অর্জনের জন্য নিজেই ফোন করে বলতো, পুলিশকে কেন জানানো হলো? দিতো হুমকি। এরপর আবারো টাকা আদায়।

ডিএমপির গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনা মো. আসাদুলজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারের পর বেলালের ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রায় একশ নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ছবি দেখিয়ে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতানোর প্রমাণও মিলেছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেলালের প্রতারণা থেকে বাদ যায়নি তার স্বজনরাও। এমন প্রতারণা থেকে বাঁচতে ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ার আগে সতর্ক হতে বলেছে ডিবি পুলিশ।